কলকাতা ব্যুরো: করোনা আবহে পর্যটকদের জন্য বিধিনিষেধ আরও শিথিল করল সিকিম সরকার। এবার থেকে সিকিম বেড়াতে গেলে সীমানা চেক পোস্টে পর্যটকদের টিকাকরণের শংসাপত্র বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট দেখানো আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। সোমবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে নয়া নিয়ম।

এর আগে ঠিক করা হয়েছিল, যদি কোনও পরিবার সিকিমে বেড়াতে আসে, তাহলে পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের টিকাকরণের শংসাপত্র দেখাতেই হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তত টিকার প্রথম ডোজ নিতেই হবে। আর টিকাকরণ না হলে দেখাতে হবে সফর শুরুর আগে সর্বাধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট। সিকিমে ঢোকার মুখে মেল্লি এবং রাংপো সীমানায় এই সংক্রান্ত নথি পেশ করতে হত পর্যটকদের। তবে সোমবার থেকে এই প্রক্রিয়া আর বাধ্যতামূলক থাকল না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সিকিমে ঢুকতে গেলে টিকা না নিলে বা আরটি-পিসিআর পরীক্ষা না করালেও চলবে। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট পর্যটন সংস্থা এবং হোটেলগুলিকেই পর্যটকদের কাছ থেকেই এই তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে হবে। যাতে প্রয়োজন পড়লে তারাই প্রশাসনের কাছে এই সংক্রান্ত তথ্য ও নথি পেশ করতে পারে।

পাশাপাশি একই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে সিকিমে কাজ করতে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরও। অনান্য রাজ্য থেকে যাঁরা সিকিমে কাজ করতে আসবেন, তাঁরাও তাঁদের টিকাকরণের শংসাপত্র বা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছে জমা করবেন বা যে সংস্থা শ্রমিকদের কাজে বহাল করছে, তারাও এই নথি সংগ্রহ করে রাখতে পারে। রাজ্য সরকার প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নেবে।

সূত্রের খবর, কোভিড পরিস্থিতি এখন অনেকটাই আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে৷ তাছাড়া, সামনেই দুর্গোৎসব, কালীপুজো। এই সময় সিকিমে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। এদিকে, অতিমারির আবহে গত বছর থেকেই ধুঁকছে পর্যটন শিল্প। তাই রাজ্যের পর্যটনকে চাঙ্গা করতেই বিধিনিষেধ যতটা সম্ভব শিথিল করতে চাইছে রাজ্য সরকার পাশাপাশি, পাব, রেস্তোরাঁ, দোকানগুলিতেও যাতে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ে, তা নিয়েও ভাবনা চিন্তা চলছে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই সিকিমে ১০০ শতাংশ মানুষকে (যাঁরা টিকা নেওয়ার যোগ্য) করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ আর দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৭০.৪৯ শতাংশ মানুষ ৷

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version