প্রায় আট বছর পর ফের ইউক্রেনের(#Ukraine) সঙ্গে রাশিয়ার (#Russia) সংঘাত আর তাই নিয়ে পশ্চিমের দেশগুলির মধ্যে চলছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। এই রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক অস্থিরতা আজকের নয়।নানা কারণেই ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমের দেশ ও রাশিয়ার টানটান সম্পর্ক।
সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ থাকাকালীনই ইউক্রেনের একটি অংশ পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা চেয়ে এসেছে। তারা চাইত ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করুক, প্রতিরক্ষার জন্য ন্যাটোর ( #NATO ) সামরিক জোটের সদস্য হোক। কিন্তু ইউক্রেনের যারা জাতিগত ভাবে রুশ, এবংভাষাও রুশ তারা এর ঠিক উল্টোটা চাইতো।
অন্যদিকে ইউক্রেন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের ( #SovietUnion ) অংশ থাকাকালীন ১৯৫৪ সালে রাশিয়ার মধ্যে থাকা ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অধীনস্থ করা হয়। সেদিন সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ স্বপ্নেও ভাবেননি যে, কয়েক দশকের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। ক্রিমিয়ার উপর মস্কোর যে আর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না সেটাও ছিল ধারণার বাইরে। আর সেই নিয়ন্ত্রণের টানাটানিতে রাশিয়া, ইউক্রেন সংকট বছরের পর বছর গড়িয়ে যায়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনে স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল ইউক্রেন কিন্তু সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে গজিয়ে উঠল দুটি শিবির। ইউক্রেনে বহু রুশ নাগরিক বসবাস করেন রাশিয়া সীমান্তের কাছাকাছি, তাঁরা রাশিয়ার পক্ষে। অন্য পক্ষ চায় পশ্চিমি দেশগুলির ঘনিষ্ঠতা, ইউক্রেনের নেটো-তে যোগদান। জট বাঁধল এই নিয়ে।
ইতিমধ্যে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে গেলে পুতিনের চাপে সেই চুক্তি মাঝপথে কেঁচে যায়। অন্যদিকে কেন পুতিনের চাপে কেন ইউক্রেন এত বড় বাণিজ্য চুক্তি থেকে বঞ্চিত হল তা নিয়ে দেশের মধ্যে শুরু হয়ে গেল সঙ্ঘাত। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছায় যাতে ইয়ানুকোভিচ সরকারের পতন হয় এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। দেশের এই সংকটজনক অবস্থায় ইউক্রেনে বসবাসকারী রুশরা ইউক্রেন সরকারের চরম বিরোধিতা শুরু করলে পুতিন তার ফায়দা তুলতে সচেষ্ট হয়।ক্রিমিয়া দখল করে পুতিন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করেন।
ইউক্রেনের থেকে রাশিয়া কী চায় তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (#Putin) ২০২১ সালের জুলাইয়ে ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করেই লিখেছিলেন। সেখানে পুতিন ইউক্রেন এবং রাশিয়াকে ‘এক দেশ’ হিসেবে যেমন ব্যাখ্যা করেন, তেমনি অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাগ হওয়াকে ঐতিহাসিক রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন হওয়া বলে ঘোষণা করেন। ইউক্রেন নিয়ে পুতিনের চিন্তার কারণ ন্যাটোর বাড়বাড়ন্ত। ইউক্রেন ন্যাটোর অংশ হোক তা কোনও ভাবেই চান না পুতিন। তাছাড়া ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার ৪৫ বছর ধরে ঠান্ডা যুদ্ধ লেগেই আছে। এই অবস্থায় ইউক্রেনকে ন্যাটো দলভূক্ত করলে ন্যাটো শক্তিশালী হয়ে উঠবে যা রাশিয়ার পক্ষে সমস্যার। ইউক্রেনের উপর পুতিনে ক্রোধ বাড়তে থাকে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের মানুষ রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্টকে গদি থেকে সরানোর পর।

রাশিয়া সব সময়েই দাবি করে এসেছে ন্যাটো যেন পূর্ব ইউরোপে ক্ষমতা না বাড়ায়। পুতিন স্পষ্ট ভাষাতেই বলে এসেছেন যে ইউক্রেন যেন কোনও দিনও ন্যাটোর সদস্য না হয়। তাছাড়াও রাশিয়া চায় ন্যাটো তার ১৯৯৭ সালের আগের ক্ষমতায় ফিরে যাক। কিন্তু ইউক্রেন নিজেই ন্যাটোর সদস্য হতে চায়। তাই ইউক্রেন রাশিয়ার মাথাব্যথার কারণ হয়েছে, যে মাথাব্যথার ‘ওষুধ’ হল যুদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন হল রাশিয়ার মতো এত বড় শক্তি কেন ইউক্রেন নিয়ে এত চিন্তিত?এখানেও রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে। ক্রিমিয়ার সেভেস্তাপোলে রয়েছে রাশিয়ার নৌ-ঘাঁটি। এটাই হল রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরে ঢোকার একমাত্র পথ। কিন্তু ইউক্রেন ন্যাটো-তে যোগ দিলে এই সুযোগ আর রাশিয়ার হাতে থাকবে না। এই সব কথা চিন্তা করে রাশিয়া কোনও ভাবেই চায় না ইউক্রেন ন্যাটোয় যোগ দিক।
এছাড়াও, ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির সীমান্ত রয়েছে। ক্রিমিয়ায় রয়েছে গোটা রাশিয়ায় সারা বছর সচল রাখা যায় এমন গুরুত্বপূর্ণ উষ্ণ জলের বন্দর যা আর কোথাও নেই। শুধু কী তাই। বাল্টিক সাগরে রাশিয়ার প্রবেশ পথও ক্রিমিয়ার এই বন্দর। অর্থাৎ ইউক্রেন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়ে যায় তাহলে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাবেও পুতিনের দেশ সমস্যায় পড়বে।
তাই যতবার ন্যাটোর সঙ্গে ইউক্রেনের আলোচনা হয়েছে, রাশিয়া তত বেশি করে ক্ষুব্ধ হয়েছে। যে ক্ষোভের ফলে গত কয়েক বছরে ইউক্রেনের সেনা ও রাশিয়ার মদতপুষ্ট বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ১৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর সেখান থেকে শুরু হয়েছে যুদ্ধের আশঙ্কা। একেই বিরাট বড় দেশ রাশিয়া। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কৌশলগত কারণেই ইউক্রেনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পূর্ব ইউরোপ ও নিজেদের মধ্যে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চান পুতিন। তাই ইউক্রেনকে যেনতেন প্রকারেণ দখলে রাখতে চান পুতিন।
4 Comments
রাশিয়ার একাধিক ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাঙ্গার পর রবিবার রাশিয়া থেকে জার্মানির আকাশপথ ৩ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে আকাশপথে নিষধাঙ্গা দিয়েছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড।
একদিকে বৈঠক অন্যদিকে যুদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও যুদ্ধ চলেছে সমান তালে। কিন্তু সমাধান কি স্পষ্ট হল?
খারকিভে বোমা বিস্ফোরণের ফলে এক ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। ওই ছাত্র ছাড়াও প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিস্ফরণে আরও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে রুশিরা সরকারি ভবনে আক্রমন শানাতে শুরু করেছে।
আমেরিকা ও NATO র PROXY যুদ্ধে, ইউক্রেনের খরচ $2bn প্রতিদিন। আর সমস্ত পৃথিবী এজন্য অর্থনৈতিক সমস্যায়।?