কলকাতা ব্যুরো: মুম্বাই পারে। কলকাতা পারে না। করোনা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে দুই শহরেই। একদিকে মুম্বাই, অন্যদিকে কলকাতা। দুই শহরেই করোনা বিধি মানাতে পুলিশ তৎপরতা দেখাচ্ছে। কিন্তু আন্তরিক ভাবেই নাগরিককে বিধি মানাতে তৎপরতা দেখাতে আরো এক ধাপ বাড়তি দায়িত্ব নিল মুম্বাই পুরসভা। প্রথমবার মাস্ক না পড়ে ধরা পড়লে ২০০ টাকা জরিমানা ছিলই। নতুন করে মুম্বাই পুরসভা জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে দ্বিতীয়বারও মাস্ক না পড়ে কেউ ধরা পড়লে, তাকে ঝাড়ু দিতে হবে শহরের রাস্তায়।

শুধু মুখের কথায় নয়, ইতিমধ্যেই মুম্বাইয়ের কে ওয়েস্ট ওয়ার্ডে এই ব্যবস্থা চালু করে ফেলেছে পুরসভা। মূলত অন্ধেরি ওয়েস্ট, জুহু এবং ভের শোভা এলাকায় গত সাতদিন ধরে দ্বিতীয়বার কেউ মাস্ক না পড়ে রাস্তায় বেরোলেই তাকে করতে হচ্ছে সমাজসেবা। ঝাড়ু হাতে নেমে পড়তে হচ্ছে রাস্তায়। পুর কর্তারা জানাচ্ছেন, এতদিন টাকা দিয়ে জরিমানা দেওয়ার পরও, মানুষ দ্বিতীয়বারও একই ভুল করতেন। কিন্তু এখন যেই প্রকাশ্যে ঝাড়ু হাতে একই অপরাধের জন্য রাস্তা ঝাট দিতে হচ্ছে, তখনই টনক নড়ছে অনেকের। ফলে একবার ঝাড়ু দেওয়ার পর আর মাস্ক না পড়ার ভুল তারা করছেন না।

কলকাতায় অবশ্য সেসবের কোনও বালাই নেই। পুলিশ তার মত করে প্রতিদিন মাস্ক না পরার জন্য কযইয়েকশো লোককে জরিমানা করছে। ওই পর্যন্তই। কিন্তু এক্ষেত্রে নিজে কিছু করার ব্যাপারে অবশ্য খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা কলকাতা পুরনিগমের থেকে। যদিও মুম্বাই পুরসভার কর্তারা বলছেন, আইনের বাইরে কিছুই করা হচ্ছে না। আইন মেনেই নাগরিকদের জরিমানা হিসেবে সমাজের কাজে নামতে বাধ্য করার সুযোগ রয়েছে পুরসভার হাতে। বর্তমান মহামারী আবহে যেভাবে আবার করোনা থাবা বসাচ্ছে সে ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতায় একটু বাড়তি উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।

কলকাতা অবশ্য এ ব্যাপারে খুব বেশি উদ্যোগ নিচ্ছে এখনো তেমন কোনো লক্ষণ নেই। কারণ রাজ্য সরকার আগেই বলে দিয়েছে, কেউ মাস্ক না পড়ে বেরোলে, তাকে আবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া যাবে। ফলে এখানে প্রশাসনও নরম। সরকারের নিদান মেনে নাগরিককে মাস্ক পরিয়ে দেওয়ারও কাজ করতে পারে এ শহর। যদিও পুরসভা সে সব রাস্তায় না হেঁটে মাস্ক নিয়ে একেবারে মৌনী। ফলে যস্মিন দেশে যদাচার।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version