কলকাতা ব্যুরো: গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নয়া মোড়। মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই অনুসন্ধানে স্থগিতাদেশ দিলেও, মূল মামলায় কোন পদক্ষেপ করেনি। এই যুক্তিতে বৃহস্পতিবার ফের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মামলার শুনানি করলেন। বৃহস্পতিবার নতুন করে ৫৪২ জনের নিয়োগ দুর্নীতির নথিপত্র আদালতে জমা পড়েছে। আদালত স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, এদের মধ্যে যারা নিয়োগপত্র পেয়ে গিয়েছে এবং যাদের ২০১৯ সালের ৪ মে প্যানেল বাতিলের পরে অনুমতি পত্র দেওয়া হয়েছে, তাদের বেতন বন্ধ করতে নির্দেশ দিতে হবে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের।
প্রসঙ্গত গত ১৭ মে এই বেঞ্চ এর আগে যে ২৫ জনের বিতর্কিত নিয়োগ অনুমতি পত্র জমা পড়েছিল, তাদের বেতন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। আগামী ডিসেম্বর দ্বিতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি করবে সিঙ্গেল বেঞ্চ। এর আগে মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই অনুসন্ধান স্থগিত করে মূল মামলাটি আগামী সোমবার দিন ধার্য করেছে।
বুধবার ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর একটা কথা মনে হয়েছিল, সম্ভবত সিঙ্গল বেঞ্চে এ মামলা থাকলেও আর বড় কোনও পদক্ষেপ হবে না কারণ, ডিভিশন বেঞ্চ যেহেতু মামলাটি দেখছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে ইতিমধ্যেই আরও ৫৪২ জনের নামের তালিকা জমা পড়েছে, যে নিয়োগ বেআইনি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মামলাকারীরা। এই নামের সঙ্গে নিয়োগের বিস্তারিতও জমা পড়েছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। এবার তাঁদেরও বেতন বন্ধের পথে হাঁটতে পারে কমিশন।
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ৫৪২ জনের মধ্যে কারা ইতিমধ্যেই চাকরি পেয়েছেন এবং সরকারি বেতন নিচ্ছেন এটা খতিয়ে দেখবে কমিশন। তারপর সেই সংখ্যক চাকুরিজীবীর প্রত্যেকের বেতন বন্ধ করবেন সংশ্লিষ্ট ডিআই অর্থাৎ আগে ২৫ জনের বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মামলা এখন ডিভিশন বেঞ্চে রয়েছে। এই মামলায় সিবিআইয়ের অনুসন্ধানের যে নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের ছিল, তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয় বুধবার। কিন্তু এই ৫৪২ জনের নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ নিঃসন্দেহে নয়া মোড় দিচ্ছে।
মামলায় সিবিআই অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। বুধবার সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চ। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। তিন সপ্তাহের জন্য সিবিআই অনুসন্ধানে স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।